আগমনকালের তৃতীয় রবিবার: আনন্দের ডাক

আগমনকালের তৃতীয় রবিবার: আনন্দের ডাক

✍ লেখক: অর্নেট ব্লেইজ পেরেরা
📅 প্রকাশিত: 14 Dec 2025
খ্রিস্টীয় লিটার্জিক্যাল বর্ষে আগমনকালের তৃতীয় রবিবার এক বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। এই রবিবারটি পরিচিত “গাউদেতে রবিবার” নামে, যার অর্থ “আনন্দ করো”। প্রভু যীশুখ্রিস্টের জন্মের প্রতীক্ষার মাঝপথে এসে এই দিনটি আমাদের মনে করিয়ে দেয় অপেক্ষার মধ্যেও আনন্দ আছে, অন্ধকারের মাঝেও আলো জ্বলে ওঠে।
আগমনকাল আমাদের জন্য এক পবিত্র প্রস্তুতির সময়। এটি আত্মসমীক্ষা, প্রার্থনা ও প্রত্যাশার সময়। প্রথম দুই রবিবারে আমরা অনুশোচনা ও সতর্কতার আহ্বান শুনি। কিন্তু আগমনকালের তৃতীয় রবিবারে গির্জা আমাদের আশ্বাস দেয় আনন্দ করো, কারণ প্রভু নিকটবর্তী।
এই রবিবারের ধর্মগ্রন্থ পাঠগুলো আশায় পূর্ণ। বাণীতে আমরা মুক্তির প্রতিশ্রুতি শুনি দুঃখীরা সান্ত্বনা পাবে, দুর্বলরা শক্তি লাভ করবে। সেন্ট পলের চিঠিতে আমরা পাই এক স্পষ্ট আহ্বান, “সর্বদা আনন্দ করো, নিরন্তর প্রার্থনা করো।” আর সুসমাচারে যোহন বাপ্তিস্ট আমাদের শেখান আলো আসছে, তাই আমাদের জীবনকে সেই আলোর জন্য প্রস্তুত করতে হবে।
আগমনকালের তৃতীয় রবিবার আমাদের শেখায় যে খ্রিস্টীয় আনন্দ কেবল বাহ্যিক সুখের ওপর নির্ভরশীল নয়। এই আনন্দ আসে ঈশ্বরের প্রতিশ্রুতিতে দৃঢ় বিশ্বাস থেকে। জীবনের দুঃখ, কষ্ট ও অনিশ্চয়তার মাঝেও আমরা আনন্দে ভরপুর থাকতে পারি, কারণ ঈশ্বর আমাদের সঙ্গে আছেন।
আজকের ব্যস্ত ও ভোগবাদী সমাজে মানুষ প্রায়ই ক্ষণস্থায়ী আনন্দের পেছনে ছুটে বেড়ায়। কিন্তু আগমনকাল আমাদের ডাকে এক গভীর ও স্থায়ী আনন্দের দিকে যে আনন্দ আসে ভালোবাসা, ক্ষমা, সহানুভূতি ও ভাগ করে নেওয়ার মধ্য দিয়ে।
এই তৃতীয় রবিবারে আমরা আহ্বান পাই অন্যদের জীবনে আনন্দের বার্তাবাহক হতে। দরিদ্রের পাশে দাঁড়ানো, দুঃখীর চোখে আশা ফিরিয়ে আনা, হতাশকে সাহস দেওয়াই হলো আগমনকালের প্রকৃত প্রস্তুতি।
আসুন, আগমনকালের এই তৃতীয় রবিবারে আমরা আমাদের হৃদয় খুলে দিই। আশার আলো ও আনন্দের বার্তায় নিজেদের জীবন এবং আমাদের চারপাশ আলোকিত করি। কারণ প্রভু আসছেন আর তাঁর আগমন মানেই সত্যিকারের আনন্দ।
“আনন্দ করো, প্রভু নিকটবর্তী।”
👁 মোট ভিজিট: 174
← সব আর্টিকেল
Melody-of-Prayer